বিটিপিটি

সহযোগিতামূলক শিখন শেখানো কৌশল

সহযোগিতামূলক শিখন শেখানো কৌশল

সহযোগিতামূলক শিখন কী?

সহযোগিতামূলক শিখন হচ্ছে এমন একটি শিখন- শেখানো কৌশল যেখানে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষকের জন্য বোঝা না হয়ে বরং সম্পদ হয়ে যায়। শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রেণিকক্ষে সকলের শিখন নিশ্চিত করার জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। মাত্রা বুঝে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যোগ করে শিখনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন । এই প্রক্রিয়ায় যেহেতু শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে এবং তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তারা পরস্পর থেকে শিখে তাই শ্রেণিকক্ষে শিশুরা স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাচ্ছন্দে থাকে এবং তাদের অংশগ্রহণের মাত্রাও বেড়ে যায়।

সহযোগিতামূলক শিখনের সুবিধা
  • শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কথা বলার পরিমান কমিয়ে কাজের চাপ কমিয়ে দেয়
  • বড় শ্রেণিকক্ষে একসাথে সকল শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করানো যায়
  • যেসব শিশুর চাহিদাভিত্তিক একক সহায়তা দরকার হয় শিক্ষক তাদরকেই সহায়তা করতে পারে
  • শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ব্যবহার তার শিখন বাড়িয়ে দেয় এবং তা শিশুর কাছে আনন্দায়ক করে
সহযোগিতামূলক শিখন কৌশল যা থাকলে এটি সর্বোচ্চ শিখনে সহায়তা করে। যেমন-

ইতিবাচক পারস্পরিক নির্ভশীলতা (Positive interdependence):

সহযোগিতামূলক শিখন কৌশল এমন বিষয় থাকতে হবে যেন তা সহপাঠীদের একজন আরেকজনকে পাঠে ও শ্রেণিকাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করে, সহায়তা ও উৎসাহ দেয় এবং একজন আরেকজনের শেখা থেকে শিখতে পারে। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বস করতে পাওে যে তারা একজনকে ছাড়া সফল হতে পারে না।

মুখোমুখি যোগাযোগ (Face to face interaction):

এমন প্রক্রিয়া নিতে হবে যেন তা শিক্ষার্থীরা কাজ করার সময় একজন আরেকজনের মুখোমুখি বসে, দলের সবাই সবাইকে দেখতে পায়, সকলে সকলের সাথে কথা বলে শ্রেণিকাজে সহায়তা করতে পারে।

একক দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা (Individual accountability):

এমন কৌশল নিতে হবে যেন দলে কাজ করার সময় প্রতিটা শিক্ষার্থীর কিছু দায়িত্ব পায় কাজ করার সময় সে যে কাজ করছে তা নিশ্চিত করা যায়। শিক্ষার্থীর কাজ অনুযায়ী যেন তার পারফরমেন্সকে মূল্যায়ন করা হয় এবং এর ফলাফল দলগত ও একক উভয়ভাবেই যেন শিক্ষার্থী পায় ।

পারস্পরিক ও ছোট দলে কাজ করার দক্ষতা (Interpersonal and small group skills):

দলীয় কাজ এমনভাবে দিতে হবে যেন ছোট দলে কাজ করার জন্যে যে দক্ষতা লাগে যেমন: পারস্পরিক যোগাযোগ, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা, বিশ্বস এবং দ্বন্দ নিরসন দক্ষতা অর্জন ও চর্চা করতে পারে। এটা বিশ্বস করাতে হবে যে যার যার কাজ সে না করলে, অন্যকে সহায়তা না করলে দল সমষ্টিগতভাবে সফল হয় না ।

দলীয় কাজের সারমর্ম করণ (Group processing):

দলীয় কাজের সারমর্ম করণ এমনভাবে করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা দলে কাজ শেষ করে নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করতে পাওে যে তারা সবাই কি সমানভাবে দলে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে কি-না। পরবর্তিতে দলের কাজেকে সারাংশ করে উপস্থাপন করতে পারবে।

সহযোগিতামূলক শিখনের বিভিন্ন কৌশল

শ্রেণিকাজে সহযোগিতামূলক শিখন বিভিন্নভাবে করানো যেতে পারে । শিক্ষক যেকোন একটি কৌশল ব্যবহার করতে পারেন আবার কয়েকটা কৌশলের সংমিশ্রন করতে পারেন। শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা তৈরির সময়, তার শ্রেণির অবস্থা, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনা করে কৌশল ঠিক করবেন। নিম্নে কতগুলো কৌশল আলোচনা করা হলো-

  • > চিন্তা করা- জোড়ায় আলোচনা-উপস্থাপন
  • > জিগসো
  • > ভেতর-বাহির দলে
  • > চার কর্ণার
  • > প্লেস-ম্যাট
  • > সংখ্যা দল
  • > গোল টেবিল।

মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।