বিটিপিটি

বুদ্ধিবৃত্তিক বা জ্ঞানমূলক শিখনক্ষেত্রের উপক্ষেত্র

বুদ্ধিবৃত্তিক বা জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র (Cognitive Domain):

জ্ঞান এবং এর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা জ্ঞানীয়ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। লিখিত কোন বর্ণনা যেমন-পাঠ্যপুস্তক পড়ে, ছবি দেখে, পড়ে বা শুনে সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা, স্মরণ করা বা তথ্য বিশ্লেষণ করার বিষয়টি জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের অন্তর্গত। এটিকে মানুষের মাথার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কেননা চিন্তার কাজগুলো মানুষ মাথার দ্বারা করে থাকে।

আমাদের যে চিন্তন বা বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা যেমন- কোন কিছু মনে রাখতে পারা, পড়ে বা শুনে বুঝতে পারা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারা, ব্যাখ্যা করতে পারা ইত্যাদি দক্ষতাই হচ্ছে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের অংশ। জ্ঞানীয় বা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্র ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীর জ্ঞান এবং এর বিকাশের সাথে সম্পর্কিত। সাধারণত একজন শিক্ষক শ্রেণি শিখন শেখানো কাজে শিক্ষার্থীর যেসব শিখন উদ্দেশ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তার বেশির ভাগই জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের অন্তর্ভূক্ত।

শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন উ‪চতর চিন্তনমূলক শিখনের সুযোগ। চিন্তন প্রক্রিয়ার পার্থক্য অনুযায়ী একে আবার ৬টি উপভাগে ভাগ করা হয়েছে।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের উপক্ষেত্র (Sub-domain of cognitive domain)

 ১. জ্ঞান (Knowledge)

 ২. বোধগম্যতা (Comprehension)

 ৩. প্রয়োগ (Application)

 ৪. বিশ্লেষণ (Analysis)

 ৫. সংশ্লেষণ (Synthesis)

 ৬. মূল্যায়ন (Evaluation)।


১. জ্ঞান (Knowledge): জ্ঞান হলো কোনো বিষয়ে তথ্য জেনে প্রয়োজনে স্মরণ করার সামর্থ্য। অর্থাৎ কোন বিষয়ের তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র, সংজ্ঞা, নীতি ইত্যাদি মুখস্থ করে শিক্ষার্থী কতটুকু স্মরণ বা পুনর্ব্যক্ত করতে পারল তার সামর্থ্য বোঝায়।

২. বোধগম্যতা (Comprehension): বোধগম্যতা হলো কোন কিছু বোঝার সামর্থ্য। শিক্ষার্থী কোনো বিষয় শিখে তার অর্থ বা মূলভাব কতটুকু বুঝতে বা আয়ত্ত করতে পারল সেই সামর্থ্যকে বোঝায়।

৩. প্রয়োগ (Application): প্রয়োগ হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সামর্থ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক জ্ঞানঅর্থাৎ কোনো বিষয়ের অর্জিত জ্ঞান ও বোধগম্যতাকে তারা বাস্তব ক্ষেত্রে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে তার সামর্থ্যকে বোঝা যায়।

৪. বিশ্লেষণ (Analysis): বিশ্লেষণ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার উপাদানগুলোকে অর্থপূর্ণভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে ভাগ করার সামর্থ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখা কোনো বিষয়বস্তু, কোনো ঘটনা, রূপ, সূত্র, উপাদান, নীতি বা ধারণা ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রূপে ভেঙে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে উপস্থাপন করার সামর্থ্যকে বোঝায়।

৫. সংশ্লেষণ (Synthesis): সংশ্লেষণ হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উপাদানের সমন্বয়ে কোনো বিষয় সম্পর্কে সামগ্রিক মত বা ধারণা বা সিদ্ধান্ত প্রদান করার সামর্থ্য। এর মাধ্যমে কোনো বিষয়ের উপাদানগত বিন্যাস ও গঠন অংশের সমন্বয় বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসার সামর্থ্যকে বোঝায়।

৬. মূল্যায়ন (Evaluation): বস্তুর ধারণা বা মূল্য সম্পর্কে বিচার করাই হলো মূল্যায়ন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কোন বিষয় সমালোচনা, পর্যালোচনা, যুক্তি, প্রমাণ এবং তাৎপর্যগত দিক বিচার বিশ্লেষণ করে তার মূল্য বা মান যাচাই করার সমার্থ্যকে বোঝায়।

ব্লুম-এর ট্যাক্সোনমির পরিমার্জিত রূপ (Revised Bloom Taxonomy)

বøুমের প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ সম্বিলিতভাবে ২০০১ সালে বøুমের শ্রেণিবিন্যাসের পরিমার্জন করে এর নামকরণ করেন 'A Taxonomy for Teaching, Learning and Assessment'। শিখন উদ্দেশ্যের শ্রেণিবিন্যাসকে একুশ শতকের উপযোগী করে বিন্যস্ত এবং পারিভাষিক শব্দ (Terminology) সহ গঠনগত দিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। এই সংস্করণে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরিমাপের জন্য ‘বিশেষ্য’ (Noun)-এর পরিবর্তে ‘ক্রিয়াবাচক শব্দ’ (Action word) বা ‘ক্রিয়াপদ’ (Verb) ব্যবহারের রীতি প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের তিনটি উপক্ষেত্রের নাম এবং শেষ দুটি উপক্ষেত্রের বিন্যাসে পরিবর্তন করা হয়। পরিমার্জিত এই শ্রেণিবিন্যাসে শিখন প্রক্রিয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। পূর্বের ন্যায় শিখনক্ষেত্রের পরিমার্জিত শ্রেণিবিন্যাসের পর্যায়গুলোও  নিম্বতর স্তর হতে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। 

 ১. স্মরণ বা মনে রাখা (Remember): স্মৃতি থেকে কোনো বিষয় মনে করা, চিনতে পারা বা স্মরণ করা।

২. বুঝতে পারা (Remember): ব্যাখ্যা, উদাহরণ, শ্রেণিকরণ, সারসংক্ষেপকরণ, অনুমান বা তুলনার মাধ্যমে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো বিষয়ের অর্থ গঠন করা।

৩. প্রয়োগ করা (Apply): প্রাপ্ত তথ্য বা অর্জিত জ্ঞানকে কোনো নতুন পন্থায় বা নতুন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা বা সাদৃশ্যপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা।

৪. বিশ্লেষণ করা (Analyze): কোনো বিষয়কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে অর্থপূর্ণভাবে বিভক্ত করা এবং অংশগুলো কীভাবে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত তা পার্থক্যকরণ বা সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা।

৫. মূল্যায়ন করা (Evaluate): নির্দিষ্ট মানদন্ড বা আদর্শের ভিত্তিতে পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ এবং সমালোচনার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের মূল্য যাচাই করা।

৬. সৃজন করা (Create): পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন ধারণা বা উপাদান একত্রিত করার মাধ্যমে কোনো ধারণার সামগ্রিক রূপ দেওয়া, অর্জিত জ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন জ্ঞান বা ধারণার সৃষ্টি, কোনো নতুন উৎপাদন বা সামগ্রীর ডিজাইন করা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন প্রস্তাব/সিদ্ধান্ত গ্রহণ।


মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।