বিটিপিটি

মাল্টিসেন্সরি উপকরণ

মাল্টিসেন্সরি উপকরণ বলতে কী বোঝায়?
মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয় রয়েছে। এগুলো হল: চোখ, কান, নাক, জিহবা ও ত্বক।  মানুষ যেমন একটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে নতুন কিছু শিখতে পারে, তেমনি একাধিক ইন্দ্রিয় ব্যবহার করেও নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করে। আবার কোন শিখনে শিশু তাদের সকল ইন্দ্রিয় একসাথে ব্যবহার হতে পারে। যেসব উপকরণ ব্যবহারে শিক্ষার্থীর একের অধিক ইন্দ্রিয় কাজে লাগে সেসব উপকরণসমূহকে মাল্টিসেন্সরি উপকরণ বলা হয়। 

প্রতিটি মানুষ এই পঞ্চ ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে নতুন নতুন বিষয় শিখে বা অভিজ্ঞতা লাভ করে। তারা চোখ দিয়ে দেখে শিখে, কান দিয়ে শুনে শিখে, নাক দিয়ে গন্ধ শুঁকে শিখে, জিহবা দিয়ে স্বাদ নিয়ে শিখে এবং ত্বক দিয়ে স্পর্শ করে শিখে। মানুষ যেমন একটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে নতুন কিছু শিখতে পারে, তেমনি একাধিক ইন্দ্রিয় ব্যবহার করেও নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করে। আবার কোন শিখনে তাদের সকল ইন্দ্রিয় একসাথে ব্যবহার হতে পারে। যেসব উপকরণ ব্যবহারে শিক্ষার্থীর একের অধিক ইন্দ্রিয় কাজে লাগে সেসব উপকরণসমূহকে মাল্টিসেন্সরি উপকরণ বলা হয়। 

মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থাকে। এই অংশগুলো একটি অপরটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। Whole brain learning theory  অনুযায়ী যখন নির্দেশনা বিভিন্ন ইন্দ্রিয় দ্বারা মস্তিষ্কে গৃহীত হয় তখন শিখন অধিকতর কার্যকর ও স্থায়ী হয়। তাই পাঠদানে এমন মাল্টিসেন্সরি উপকরণ ব্যবহার করা উচিত যা শিক্ষার্থীর দুই বা ততোধিক ইন্দ্রিয়কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে শিখনে সহায়তা করে।   

মাল্টিসেন্সরি উপকরণ কয় প্রকার ও কী কী?
মাল্টিসেন্সরি উপকরণের প্রকারভেদঃ
🔸 দর্শনযোগ্য উপকরণ (Visual Aids)
🔸 শ্রবণযোগ্য উপকরণ (Auditory Aids)
🔸 শ্রবণ-দর্শনযোগ্য উপকরণসমূহ (Audio-Visual Aids)
🔸 স্পর্শযোগ্য উপকরণ (Tactile Aids)
🔸 স্বাদযোগ্য উপকরণ (Gustatory Aids)
🔸 গন্ধযুক্ত উপকরণ (Olfactory Aids)
🔸 শারীরবৃত্তীয় উপকরণ (Kinesthetic Aids)

শিখন শেখানো কার্যক্রমে মাল্টিসেন্সরি উপকরণ ব্যবহার প্রয়োজন কেন?
অথবা, মাল্টিসেন্সরি উপকরণ ব্যবহারের সুবিধাঃ
✅ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র চাহিদা পূরণের জন্য।
✅ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন ধরণের বৈচিত্র্যতার জন্য।
✅ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতিবন্ধকতা বিবেচনা করে তাদের শিখনে সহায়তা করার জন্য।
✅ কোন জটিল বিষয়কে সহজ করে উপস্থাপনের জন্য।
✅ বিমূর্ত বিষয়কে মূর্ত করে তোলার জন্য।
✅ সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য।
✅ শিখনফল অর্জনে সহায়তা করার জন্য।

হাওয়ার্ড গার্ডনারের বহুমুখী বুদ্ধিমত্তা তত্ত্ব

হাওয়ার্ড গার্ডনারের বহুমুখী বুদ্ধিমত্তা তত্ত্ব অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের শেখার ধরন ভিন্ন। কেউ দেখে ভালো শিখে, কেউ শুনে ভালো শিখে, আবার কেউ কাজটি করার মাধ্যমে ভালো শিখে। তাঁর মতে বুদ্ধিমত্তার ধরন হলো-
১. মৌখিক ও ভাষাবৃত্তীয় বুদ্ধিমত্তা
২. যৌক্তিক ও গাণিতিক বুদ্ধিমত্তা
৩. দৃষ্টি ও অবস্থানমূলক বুদ্ধিমত্তা
৪. ছন্দ ও সঙ্গীতমূলক বুদ্ধিমত্তা
৫. অনুভ‚তি ও শারীরবৃত্তীয় বুদ্ধিমত্তা
৬. অন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা
৭. আন্তঃব্যক্তিক বুদ্ধিমত্তা
৮. প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা
গার্ডনার এর মতে, একেক মানুষের ক্ষেত্রে এক বা একাধিক বুদ্ধিমত্তা প্রবল। তাই তাদের শেখার ধরণও ভিন্ন।



মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।