প্রাত্যহিক সমাবেশ ও শপথ বাক্য
প্রাত্যহিক সমাবেশ ও শপথ বাক্য
প্রাত্যহিক সমাবেশ বলতে কী বুঝায়?
প্রতিদিন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে নির্দিষ্ট
সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে সকল শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্মিলিত যে কর্মসূচি শৃঙ্খলার সাথে
ধারাবাহিক ভাবে পালন করা হয় তাকে প্রাত্যহিক সমাবেশ বলে।
প্রাত্যহিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নানাবিধ গুণাবলি অর্জিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে শিশুর একতা, শৃংঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বদান, ধর্মীয় অনুভূতি ও সম্প্রীতি, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়।
প্রাত্যহিক সমাবেশ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবশ্যকীয় কর্মসূচীর অন্তর্ভূক্ত বলে অবশ্যই পরিগণিত হবে। প্রাত্যহিক সমাবেশে সকলের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ আইনের দ্বারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যালয়ে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এবং বর্ষা মৌসুম, গ্রীষ্মের প্রখর তাপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তন, বারান্দা কিংবা শ্রেণিকক্ষের প্রাত্যহিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক/দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকগণ পর্যায়ক্রমে সমাবেশ পরিচালনা করবেন।
প্রাত্যহিক সমাবেশের
ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার ধাপ
১. জাতীয় পতাকা উত্তোলন:
প্রথমে প্রতিষ্ঠানের প্রধান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। পতাকা উত্তোলনের সময় সকলে
সাবধান হয়ে থাকবে।
২. জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন:
প্রতিষ্ঠান প্রধান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এক পদক্ষেপ পেছনে এসে পতাকাকে অভিবাদন
করবেন। সাথে সাথে অন্য সকলে সাবধান অবস্থায় হাত তুলে পতাকাকে অভিবাদন করবে।
৩. পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ:
পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ (অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থী থাকলে তাঁদের ধর্মগ্রন্থ থেকেও
পাঠ করা যেতে পারে) একজন পাঠ করবে, অন্য সকলে শুনবে।
তেলাওয়াতের সময় সকলে আরামে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাঁড়াবে।
৪. জাতীয় সংগীত: সকলে সমবেত
জাতীয় সংগীত গাইবে। এ সময় সকলে‘সাবধান’ অবস্থায়
থাকবে।
৫. শপথ গ্রহণ: একজন শপথ
বাক্য পাঠ করবে। বাকী সকলে তার সঙ্গে বলবে। শপথের সময় সাবধান হয়ে ডানহাত
সম্মুখেকাঁধ বরাবর তুলে দাঁড়াবে।
৬.প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য:
প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাষণ (প্রয়োজনবোধে)।
৭.পি.টি. অনুশীলন: শারীরিক
শিক্ষার শিক্ষক/দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ৫ মিনিটের জন্য শরীরচর্চা
(পি.টি) অনুশীলন করাবেন। এখানে উল্লেখ্য যে এমন ধরনের ব্যায়াম করানো যাবেনা যাতে
শিক্ষার্থীদের হাতে বা জামা কাপড়ে মাটি লাগার সম্ভাবনা থাকে।
০৮.সমাবেশ শেষে: শিক্ষার্থীরা
শৃঙ্খলার সাথে ফাইলবদ্ধ অবস্থায় নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবে।
প্রাত্যহিক সমাবেশ সম্পর্কিত নির্দেশনা
লাইন: পাশাপাশি
দাঁড়ানো অর্থাৎ একজনের বামপাশে একজন তার বামপাশে আর একজন এভাবে পর্যায়ক্রমে
দাড়াঁনোকে লাইন বলে।
ফাইল: পিছে-পিছে
দাড়ানো অর্থাৎ একজনের পিছে একজন এভাবে পর্যায় ক্রমে দাড়ানোকে ফাইল বলে।
পরিচালনাকারীর আদেশ
অভিবাদনের সময়-
🪒 ১ বললে হাত পাশ দিয়ে প্রশস্তভাবে উঠবে,
🪒 ২ বললে হাত সামনে দিয়ে সংকুচিতভাবে নামবে।
🪒 ১ ও ২ এর মাঝে ৩ সেকেন্ডের
বেশি বিরতি থাকবেনা।
শপথের সময় সকলে হাতমুষ্টি বদ্ধ বা খোলা (যে কোন ১টি) অবস্থায় রাখতে হবে। সাধু এবং চলিত
এর যে কোন ১টি রীতিতে শপথ বাক্য পাঠ করবে। আমিন বললে হাত নামবে।
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত- নতুন ১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে পতাকা প্রথমে পতাকা দন্ডের সর্বোচ্চ চ‚ড়া পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর পতাকা দন্ডের এক-চতুর্থাংশের দৈর্ঘ্য সমান নিচে নামিয়ে পতাকাটি স্থাপন করতে হবে।পতাকা নামানোর সময় পতাকা চ‚ড়া পর্যন্ত উঠিয়ে তারপর নামাতে হবে। আগের বিধিমালার ১২ অনুচ্ছেদে পতাকা দন্ডের এক-চতুর্থাংশের দৈর্ঘ্য সমান নিচে নামিয়ে পতাকা স্থাপন করার বিষয়টি ছিলনা। সাধারণত ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস ও জাতীয় শোক পালনের দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
নতুন শপথ বাক্য
“ আমি শপথ করিতেছি যে মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। হে মহান আল্লাহ/মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসাবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আমিন। ”
সমাবেশ কীভাবে পরিচালনা
করতে হয়? (ভিডিও দেখুন)
দৈনিক সমাবেশ পরিচালনার ভিডিও লিংক
এ
ধরনের আরো পোস্ট পড়ুনঃ
➰ কাব স্কাউটিংয়ের
ধারণা ও পটভূমি
➰ কাব-স্কাউটের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কাব
প্রতিজ্ঞা, আইন ও মটো
➰ কাব-স্কাউট ইউনিট লিডারের যোগ্যতা ও গুণাবলি
মতামত দিন