বয়ঃসন্ধিকাল ও এর বৈশিষ্ট্য
বয়ঃসন্ধিকাল কী?
১০/১১ বছর থেকে ১৩/১৪ বছর বয়ঃসন্ধিকাল বা কৈশোরকাল (Pre-adolescent period) বলে। জীবন বিকাশের অত্যন্ত ক্সবচিত্র্যপূর্ণ, সুন্দর এবং একই সাথে বিপদজনক একটি পর্যায়। স্বল্পস্থায়ী এ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হয়। বয়ঃসন্ধিকাল যেমন- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিপক্কতা অর্জন করে, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লাভ করে। এস্তরে সবচেয়ে বেশি দৈহিক বৃদ্ধি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনুপাতের পরিবর্তন হয়। এ পর্যায়ে যতটুকু তথ্য তাদের চাওয়া ততটুকুই দেয়া প্রযোজন। পরিবর্তনের অস্থিরতায় উপযোগী আচরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে সঠিক নির্দেশণা প্রয়োজন। প্রাপ্ত বয়সে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের অদম্য ইচ্ছা ও সুখকর প্রত্যাশাই সাফল্যের পথে চালিত করতে পারে।
বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যাবলী লিখুন।
১) বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দৃঢ়তা এবং সতেজতা বৃদ্ধি পায়।
২) তখন ছেলেদের দাড়ি গোঁফ এবং ছেলে-মেয়েদের উভয়েরই বগল ও যৌনাঙ্গের পার্শ্বে পরিপক্ক লোম গজাতে শুরু করে।
৩) এ বয়সে অনুরাগ এবং জানার কৌতূহল বৃদ্ধি পায়।
৪) খুব তীব্রভাবে আনন্দ অনুভূতির প্রকাশ করে থাকে।
৫) সমবেদনার চেয়ে মর্মবেদনা বেশি থাকে।
তারুণ্য কী? এ সময়ের বৈশিষ্ট্য লিখুন।
মানব জীবনের ১৩/১৪-১৮ বছর সময়কালটি হলো তরুণ বয়স (Adolescent period)। এ সময়কালে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্বতা অর্জন করে। মানসিকভাবে সে নিজেকে অনেক বেশি সাহসী মনে করে, আবার কখনো কখনো হতাশা প্রকাশ করে। এমনকি সে যা নয় তাও ভেবে থাকে। এসময় নিজেকে বিভিন্ন পরিবেশে, আবেগিক অনুভ‚তি যেমন, রাগ, দুঃখ, মেজাজ ইত্যাদি বেশ জোরালোভাবে প্রকাশ করে। এসময় ছেলে ও মেয়েদের বিশেষ আবেগিক ও সামাজিক পরামর্শ বেশ গুরুত্বের সাথে প্রদানের প্রয়োজন হয়। তারুন্য প্রাপ্ত বয়সের সূচনা, আত্ম পরিচিতি অর্জনের বয়স। বয়সের দিক থেকে এরা সার্বিকভাবে পরিপক্ক। এপর্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
- সমবয়সী ছেলেমেয়েদের একত্রে নতুন সম্পর্ক তৈরি করা;
- নিজের দৈহিক গঠন স্বীকার করে তার যথার্থ ব্যবহার করা;
- বাবা-মা ও বয়ষ্কদের অযাচিত আদর ভালবাসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে শেখা;
- অর্থোপার্জনের উপযুক্ত বৃত্তি গ্রহণের প্রস্তুতি, বিবাহ ও পরিবার প্রতিপালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা;
- নিজেকে স্বনির্ভরভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা উদ্ভাবন ও আদর্শগ্রহণ তারুণ্যের স্বীকৃতি ভালবাসা ও সাফল্য অর্জনের উপর অভিযোজন নির্ভর করে। তরুণ-তরুণী যদি নিজেদের সমস্যা যথাযথ ভাবে সমাধান করতে সক্ষম হয়, তবে আত্ম প্রত্যয় বৃদ্ধি পায়। বাস্তবসম্মত চিন্তাশক্তি অর্জনের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।
মতামত দিন