নেতা ও নেতৃত্বের ধারণা
প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ | Primary Teachers Training
Leader and Leadership
নেতা ও নেতৃত্বের ধারণা
নেতা বলতে কী বুঝায়?
সাধারনভাবে বলা যায়, কোনো সাধারন লক্ষ্য
অর্জনের জন্য যে ব্যক্তি কোনো দল বা জনগোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট
লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত করে তাকে নেতা বলে। নেতা সাধারণত কোনো দল, প্রতিষ্ঠান বা জনগোষ্ঠীকে
নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আদর্শের বিষয়ে সচেতন করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি তাদের সংগঠিত, অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত করে সেই লক্ষ্য অর্জনের কর্মে তাদেরকে
সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করেন।
তবে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের
প্রধান বা আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের আসনে দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তিগণের নেতৃত্বই যথেষ্ট
নয়। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মীগণকেও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ
হওয়া অতীব জরুরী।
নেতৃত্ব কী?
কোনো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো দল, প্রতিষ্ঠান বা জনগোষ্ঠীকে কোনো বিষয়ে সচেতন, সংগঠিত, অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত করা; সেই লক্ষ্য অর্জনের কর্মে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা; এবং লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত করার কর্মতৎপরতাকে নেতৃত্ব
বলে।
এককথায় নেতৃত্ব হলো একটি প্রভাব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি দল বা জনগোষ্ঠী তাদের সাধারণ লক্ষ্য অর্জন
করে’।
নেতৃত্বের সংজ্ঞা
কোনো কোনো শিক্ষাবিদের মতে, নেতৃত্ব হলো একটি
প্রক্রিয়া; আবার কোনো কোনো শিক্ষাবিদ মনে করেন, নেতৃত্ব হলো মানুষের আচরণ, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করার একটি গুণ। নেতৃত্বকে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ বিভিন্নভাবে
সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-
✨ লক্ষ্য অর্জনের জন্য
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ প্রভাবিত করার দক্ষতাকে বলা হয় নেতৃত্ব।
✨ নেতৃত্ব হলো এমন
এক প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি
নির্দেশনা, পরামর্শ ও কৌশল দ্বারা অপরকে নিয়ন্ত্রণ
কিংবা আচার আচরণ ও মনোভাবের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
✨ নেতৃত্ব হচ্ছে নেতা
কর্তৃক প্রভাব বিস্তারের একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লক্ষ্য অর্জনের
জন্য স্বেচ্ছায় কাজে অংশগ্রহণ করে।
✨ নেতৃত্ব হচ্ছে জনগণকে
প্রভাবিত করার এমন একটি কলা-কৌশল যাতে তারা দলীয় লক্ষ্য অর্জনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্বুদ্ধ
হয়।
✨ নেতৃত্ব হচ্ছে লক্ষ্য
নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত একটি সংগঠিত দলের কার্যাবলিকে প্রভাবিত করার
প্রক্রিয়া।
নেতৃত্বের প্রকারভেদ
নেতৃত্বের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রত্যেক নেতাই স্বতন্ত্র। নেতৃত্বের স্বতন্ত্র প্রকৃতি
ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে নেতৃত্বের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। বিভিন্ন তাত্তি¡ক নেতৃত্বকে বিভিন্ন ধরনে বিভক্ত করে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের নেতৃত্বের
মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধরণসমূহ:
✨ রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব
(Transformational
Leadership)
✨ শিক্ষণমূলক নেতৃত্ব
(Instructional
Leadership)
✨ কর্তৃত্বমূলক নেতৃত্ব
(Authoritative
Leadership)
✨ বন্টনমূলক নেতৃত্ব
(Distributed
Leadership)
✨ বিনিময়মূলক নেতৃত্ব
(Transactional
Leadership)
✨ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব
(Democratic
Leadership)
✨ একনায়কতান্ত্রিক
নেতৃত্ব (Autocratic Leadership)
✨ ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব
(Charismatic
Leadership)।
শিক্ষণমূলক নেতৃত্ব ও এর বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন ধরনের নেতৃত্বের মধ্যে বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষণমূলক
নেতৃত্ব অত্যন্ত কার্যকর। বিদ্যালয়ের প্রধান কাজ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন তথা শিখন শেখানো
কার্যাবলি বাস্তবায়ন করা। শিক্ষণমূলক নেতৃত্ব মূলত বিদ্যালয়ে কার্যকর ও উত্তম শিখন
শেখানো পদ্ধতির প্রয়োগ এবং সকল শিক্ষার্থীর শিখনফল অর্জন নিশ্চিতকরণের জন্য প্রধান
শিক্ষক কর্তৃক সহকারী শিক্ষকগণকে উদ্বুদ্ধ, নির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
শিক্ষণমূলক নেতৃত্বের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
১) মডেলিং (আদর্শ পাঠ),
২) মনিটরিং,
৩) ডায়ালগ (সংলাপ), ও
৪) মেন্টরিং।
মডেলিং, মনিটরিং, ডায়ালগ, মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রধান শিক্ষক প্রধানত: সহকারী শিক্ষকগণের পেশাগত উন্নয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন শেখানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য নেতৃত্ব দেন বলে এই ধরনের নেতৃত্বকে শিক্ষণমূলক নেতৃত্ব বলা হয়।
আরও পোস্ট দেখুন:
মতামত দিন