NEWS UPDATE

২-১-২ পর্যায়ক্রমিক শ্রেণী ব্যবস্থাপনা মানসম্মত শিক্ষার আলোর দিশারী

প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ | Primary Teachers Training

২-১-২ পর্যায়ক্রমিক শ্রেণী ব্যবস্থাপনা মানসম্মত শিক্ষার আলোর দিশারী

লেখক: মো আসাদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, শুক্রবাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামইরহাট নওগাঁ।

শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার উপর ভিত্তি করেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। সাধারণত, যখন পারগ শিক্ষার্থী ও অপারগ শিক্ষার্থী পাশাপাশি বসে তখন নিজেদের মধ্যে একটা ইতিবাচক সাড়াদান এবং বন্ধুত্বপূর্ণ শিশু বান্ধব মনোসামাজিক পরিবেশ তৈরি হয় যা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহী এবং উৎসাহী করে তোলে। এমন চিন্তা থেকেই এই আইডিয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।যা ইতিবাচক, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্মত শিখন পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

 

প্রথম বেঞ্চে বসবে ২ জন অপারগ শিক্ষার্থী , তারপরের বেঞ্চে বসবে ১ জন পরাগ শিক্ষার্থী যিনি সামনের ও পিছনের বেঞ্চে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। শ্রেণীতে শিক্ষার্থী বেশি হলে ৩-২-৩-২ মডেল ও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

  "২-১-২" পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে শ্রেণী ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত শিক্ষার যে সুফলগুলো হতে পারে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:

 

১. "শ্রেণীকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়"

এই বিন্যাস শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা ও সহযোগিতা সহজ করে তোলে। মাঝখানে বসা শিক্ষার্থী সামনে-পেছনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারে, ফলে দলগত কাজ ও মতবিনিময় উন্নত হয়।

২. মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়

ভিন্ন বিন্যাসে বসার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে কৌতূহল ও নতুনত্ব কাজ করে, যা মনোযোগ বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি সীমিত গোষ্ঠী হওয়ায় একে অপরের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকে।

 ৩. শ্রেণী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে

দুইজনের মাঝে একজন বসালে বিক্ষিপ্ত আলাপ বা অবাঞ্চিত আচরণ কম হয়। শিক্ষার্থীরা সহজেই শিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 ৪. শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ সহজ হয়

শিক্ষক সহজেই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেখতে ও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের আচরণ ও শিখনের অগ্রগতি মূল্যায়ন সহজ হয়।

 ৫. বিচার-বিশ্লেষণ ও চিন্তন দক্ষতা বাড়ে

এ ধরণের বিন্যাসে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করে, যেখানে তাদের ভাবনা প্রকাশ, সমাধান খোঁজা, ও যৌক্তিক আলোচনা করার সুযোগ হয়।

৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত হয়

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে গুরুত্ব দিয়ে বসানোর ফলে কেউ উপেক্ষিত থাকে না, যা মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার অন্যতম শর্ত।

৭. শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার সহজ হয়

ছোট ছোট দলে বিভক্ত থাকায় শিক্ষক সহজে শিক্ষা উপকরণ দেখাতে বা ব্যবহার করাতে পারেন, যা কার্যকর শেখার সহায়ক।

এই পদ্ধতিটি শিক্ষাকে কেবল পরীক্ষামুখী না রেখে বাস্তবভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দময় করে তোলে যা মানসম্মত শিক্ষার মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।