শিক্ষাক্রম ২০২১ এর রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য
শিক্ষাক্রম ২০২১ এর রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য
রূপকল্প কী?
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক, উৎপাদনমুখী, অভিযোজনে সক্ষম সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে
তোলা।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
উদ্বুদ্ধ,
জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি
লালনকারী স, নৈতিক, মূল্যবোধসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, সৃজনশীল ও
সুখী একটি প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে রূপকল্পটি নির্ধারিত হয়েছে। যে প্রজন্ম
স্বকীয়তা বজায় রেখে অপরের কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার পাশাপাশি সমাজের
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও শান্তিপূর্ণ
সহাবস্থানে সচেষ্ট হবে।
সৃজনশীলতা ও রূপান্তরযোগ্য
দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করে
উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে পারবে। এছাড়াও বিশ্বায়নের
প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয়ের বহুমাত্রিকতাকে স্বাগত জানিয়ে অভিযোজনে সক্ষম
বিশ্বনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে।
-(জাতীয়
শিক্ষাক্রম ২০২১: প্রাথমিক স্তর, পৃ: ৫)
রূপকল্পের
গুরুত্ব
জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১
(প্রাথমিক স্তর) এ শিক্ষাক্রমের যে রূপকল্পটি উল্লেখ করা হয়েছে তার মাধ্যমে
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উঠে এসেছে।
রূপকল্পটি বাংলাদেশের ভবিষ্যত্
প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি তাদের জীবনাচারণের
মধ্যে যেন তা ফুটে উঠে সে বিষয়টি দেশপ্রেম ও উৎপাদনশীলতার মাধ্যমে স্পষ্ট করে
তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ব্যাপারে সচেতন থাকেন
(জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা: প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির চেতনার অংশটি দেখুন)।
ব্যক্তির মধ্যে দেশপ্রেম যদি
শক্তিশালী হয় তাহলে তার দ্বারা জাতি-রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না
বরং দেশের যেকোন সংকটে তারা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে দেশের কল্যাণে এগিয়ে
আসে। পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি
উৎপাদনশীল করে তোলা যায় তাহলে রাষ্ট্রের অর্থনীতির ভীত মজবুত হয়ে উঠে। গড়ে উঠবে
অর্থনীতিতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের
শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বায়নের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সে বিষয়টি গুরুত্বের
সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দি ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায়
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে সমন্বয় করে বিশ্বের
যেকোন স্থানে বা পরিস্থিততে নিজেকে মানিয়ে নিতে তথা অভিযোজনে সক্ষম হয়ে উঠে সে
বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে।
নিম্নের কেস
স্টাডিটি মনযোগ সহকারে পড়ুন, তাহলে রূপকল্প সম্পর্কে গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।
কেসটি পড়ার সময় রূপকল্পের নিম্নলিখিত কী-ওয়ার্ডগুলো মাথায় রাখুন।
👀 মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,
👀 দেশপ্রেম,
👀 উৎপাদনশীল,
👀 বৈশ্বিক নাগরিকত্ব,
👀 অভিযোজন ক্ষমতা।
অভিলক্ষ্য কী?
শিক্ষার মাধ্যমে এ রূপকল্প
অর্জনে বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ
জন্য প্রয়োজন শিক্ষাক্রম এবং তার বাস্তবায়নে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় কিছু
কৌশলগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন নিশ্চিত করা। একটি কার্যকর পরিকল্পনা ও তার সুষ্ঠু
বাস্তবায়নই এ রূপকল্প অর্জন নিশ্চিত করতে পারে।
রূপকল্প
বাস্তবায়নের অভিলক্ষ্যসমূহ নিম্নরূপ:
👌 সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিকাশে কার্যকর ও
নমনীয় শিক্ষাক্রম;
👌 শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর বিকাশ ও উত্কর্ষের
সামাজিক কেন্দ্র;
👌 প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযোগ
ও স্বীকৃতি;
👌 সংবেদনশীল, জবাবদিহিমূলক একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা;
👌 শিক্ষাব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল, স্ব-প্রণোদিত, দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তি।
-জাতীয়
শিক্ষাক্রম ২০২১: প্রাথমিক স্তর, পৃ: ৬
অভিলক্ষ্যের
গুরুত্ব
শিক্ষাক্রমে উল্লেখিত
রূপকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক স্তরের জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ এ
উল্লেখিত অভিলক্ষ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শিক্ষার্থী সম্ভাবনাময় এবং
সঠিক পরিচর্যা এবং সহযোগীতার মাধ্যমে (বিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে থেকে) তাকে যোগ্য, উত্পাদনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সমসাময়িক ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়ে শিক্ষার্থীকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় নমনীয়
শিক্ষাক্রমের প্রবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানকে
দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীকে বিশবমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষণ-শিখনে আধুনিক ও আকর্ষণীয়
পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন আচরণকে যথার্থ ও স্থায়ী করার
ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সেজন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়
দক্ষতা উন্নয়নে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বোপরি,
শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল
অংশীদাতা ও দায়িত্ববাহককে পারস্পরিক সহযোগীতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সকলের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে।
শিক্ষাক্রমে উল্লেখিত অভিলক্ষ্যগুলো অর্জনের মাধ্যমে রূপকল্প সহজেই নিশ্চিত করা
যাবে।
মতামত দিন