NEWS UPDATE

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ভূমিকা

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ভূমিকা

-শহরজাদী সূবর্ণা

প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিশুদের শিক্ষার সূচনাগার। শিশুরা তাদের মূল শিক্ষা  পরিবার থেকে পেলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পায় বিদ্যালয় থেকে। সুতরাং দেখা যায় শিশুর বিকাশে অর্থাৎ শিক্ষার বিকাশে শিক্ষকদের যেরকম গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার পরিবারের। শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এ বিষয়ে  আর নতুন করে বলার কিছু নেই। শিক্ষকদের নির্দিষ্ট রুটিন অনুসারে তারা নিয়মিত শ্রেণী পাঠদান করেন। শ্রেণী পাঠদান এর পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম  তারা করে থাকেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এতে এক দিকে তাদের মেধার যেরকম বিকাশ ঘটে তেমনি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়। 

বর্তমানে ক্লাস রুটিনে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল শিক্ষকরা তো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন। তারা নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান করছেন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের হোম ভিজিট করছেন। সবল-দুর্বল শিক্ষার্থীদের পৃথকীকরণের মাধ্যমে শিখনফল অর্জন নিশ্চিত করছেন। কিন্তু অভিভাবকরা তারা কি ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন?

একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেমন শিক্ষকরা বাড়ির কাজ হিসেবে যে পড়াগুলো ছাত্রছাত্রীদের দেয় সেই পড়াগুলো সঠিকভাবে তারা বাড়িতে করছে কিনা সেই বিষয় অভিভাবকরা নজর দিবেন। শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। শিক্ষকদের সাথে শিশুর পড়াশোনার বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। শহরের বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবকরা মোটামুটি সচেতন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে যায় গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো একেবারে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এখানকার অভিভাবকরা মোটেও সচেতন নয়। অনেক ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবক অশিক্ষিত। তারা শিক্ষার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই বিষয়টি বোঝেনা। তারা মনে করে বিদ্যালয়ে পাঠালেই তাদের দায়িত্ব শেষ।

বিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মা এবং অভিভাবক সমাবেশ করা হয়।  এই সমাবেশগুলো করার অর্থ হচ্ছে, অভিভাবকদের সচেতন করা। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার পরিবেশ অনেক খানি পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা চাই এই প্রেক্ষাপট আরো পরিবর্তন হোক, উন্নত হোক প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার পরিবেশ। এর পাশাপাশি শিক্ষকদেরও আন্তরিক হতে হবে। একটি জাতি গঠনে তাদের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই বিষয়টি উপলব্ধি করে সঠিকভাবে পালন করতে হবে। শেষ কথা, অভিভাবক-শিক্ষক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গঠিত হবে একটি উন্নত জাতি।

আরও আর্টিকেল পড়ুন:

👀 বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র-শহরজাদী সূবর্ণা

মতামত দিন

নিউজলেটার

থাকার জন্য আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।