বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র
বাংলাদেশের
প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র
-শহরজাদী সূবর্ণা
প্রাথমিক
বিদ্যালয়, মানবজাতি গড়ার সূতিকাগার। গবেষণা করলে দেখা
যায়, বাংলাদেশের যত বড় বড় গণ্যমান্য ও উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তাগণ রয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। পূর্বে প্রত্যন্ত
অঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় সেরকম ছিল না। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে
বিভিন্ন জায়গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্য করা যায়। এগুলোর অধিকাংশই মানসম্মত হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রামাঞ্চলগুলোতে
রয়েছে যেগুলোর ভৌত ও অবকাটামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে
বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা রয়ে গেছে। তবে এখানে দুর্বলতা
বলতে শিক্ষকদের দুর্বলতা বুঝাচ্ছি না। কারণ আমরা জানি এখন যেসব শিক্ষক প্রাথমিক
বিদ্যালয় কর্মরত রয়েছেন সবাই উচ্চ ডিগ্রী প্রাপ্ত।
অনেকে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা একটি স্বপ্ন মনে করেছেন,আবার অনেকে চাকরির বয়স শেষ
হওয়ার কারণে অন্য পেশায় না যেতে পেরে এই
শিক্ষকতা চাকরিকেই মেনে নিয়ে চাকরি করছেন। এদিক থেকে বিবেচনা করলে শিক্ষকদের
দুর্বলতা খুবই নগণ্য। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিসের সমস্যা? হ্যাঁ, ভৌত এবং অবকাঠামো মূলক সমস্যা তো
রয়েছে, উপরন্তু রয়েছে অভিভাবকদের অসচেতনতা, এলাকার জনগণদের অসম্পৃক্ততা, শিশুশ্রম প্রভৃতি
বিষয়গুলো। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখনো পিছিয়ে আছে।
অনেক বিদ্যালয় নদীর ধারে অবস্থিত। সে সব বিদ্যালয় নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকার বিদ্যালয়েগুলো অবকাঠামো দিক দুর্বল হওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চরের এলাকার বিদ্যালয়গুলো বন্যার শিকার হয়। দূর্যোগ একটার পর একটা লেগেই থাকে। তবে শিক্ষার জন্য শুধু ভৌত এবং অবকাঠামো দিক ভালো হলেই চলবে না, এক্ষেত্রে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের আন্তরিকতা এবং সচেতনতাই পারবে বিদ্যালয় এর কার্যক্রম সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করতে।
আরও আর্টিকেল পড়ুন:
👀 প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ভূমিকা -শহরজাদী সূবর্ণা
মতামত দিন